আমাদের গল্প

‘জীবনের কথা জীবনের সুর’ এই বাণীকে বুকে ধরে ২০১১ সালের ২৮শে ডিসেম্বর জেলার প্রচার তরঙ্গে  আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার একমাত্র কমিউনিটি রেডিও, রেডিও মহানন্দা। শুরু হলো আনুষ্ঠানিকভাবে পথ চলা। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে একটি সাধারণ গল্প এবং রয়েছে প্রচেষ্টার বিভিন্ন চড়াই-উৎরায়।

‘রেডিও মহানন্দা’ ২০১০ সালের ২২ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক রেডিও স্থাপনের প্রাথমিক অনুমোদন প্রাপ্ত হয়। অনুমোদনপ্রাপ্তের পর শুরু হলো স্বপ্ন বাস্তবায়নের পালা। কিন্তু একটি ভালোমানের কমিউনিটি রেডিও স্থাপনে আর্থিক ও কারিগরী সহায়তার একান্ত প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। অতপরঃ জাপান সরকার ‘রেডিও মহানন্দা’র যন্ত্রাংশ ও তা স্থাপনে এগিয়ে আসেন। ফলশ্রুতিতে কমিউনিটি রেডিও স্থাপনে কারিগরী যন্ত্রাংশ রেডিও মহানন্দাকে প্রদান করেন। জাপান দূতাবাসের কাউন্সিলর, জনাব মাসাইউকিতাগা ১৪ জানুয়ারী ২০১২ ইং তারিখে এ সকল কারিগরি যন্ত্রাংশ পরিদর্শন করে যন্ত্রাংশগুলো আনুষ্ঠানিক সম্প্রচারযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করেন।
এরপর ১ ফেব্রুয়ারি ২০১২ ইং তারিখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মাননীয়মন্ত্রী, জনাব সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ‘রেডিও মহানন্দা’র আনুষ্ঠানিক সম্প্রচারের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

২৮ অক্টোবর ২০১১ ইং তারিখ রাত ১টা ৪৩ মিনিটে অর্থাৎ ২৯ অক্টোবর ‘রেডিওমহানন্দা’ তার প্রথম পরীক্ষামূলক সম্প্রচার শুরু করে এবং তা প্রাথমিকভাবে ২৭ মিনিট ধরে সম্প্রচারিত হয়। এ পর্যায়ে কারিগরী যন্ত্রাংশগুলো পরীক্ষা করা হয়।পরবর্তীতে ১৫ নভেম্বর ২০১১ রাত ৮ টায় আবার সম্প্রচার শুরু হয়। এরপর ১৬ থেকে ২৩ তারিখ বিকাল ৩ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত সম্প্রচার চলে। আর ২৪ তারিখ থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত দিনের যে কোন সময় ১/২ ঘন্টা সম্প্রচার করা হতো। ৪-৫ ডিসেম্বর ২০১১ ইং তারিখ কমিউনিটি রেডিও রেগুলেটরি কমিটির কেন্দ্রীয় কারিগরি কমিটির সদস্যগণ ‘রেডিও মহানন্দা’ স্টেশন পরিদর্শন করেন এবং সম্প্রচারের অনুমতি দেন। এর ফলে ৬ ডিসেম্বর হতে পূণরায় বিকাল ৩ টা থেকে রাত ১০ টাপর্যন্ত সম্প্রচার শুরু হয়। অতপর ২৮ ডিসেম্বর ২০১১ ইং তারিখ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক ‘রেডিও মহানন্দা’ সম্প্রচারের জন্য লাইসেন্স প্রাপ্ত হয়।

তথ্য একটি অধিকার। তথ্যহীন মানুষ দিশাহীন কান্ডারীর মতো। তাই প্রয়াস উদ্যোগ নিয়েছে গ্রাম-শহর, উঁচু-নিচু, সুবিধা-প্রাপ্ত ও সুবিধাহীন জন-গোষ্ঠীর মানুষের তথ্য চাহিদা পূরণের। তথ্য সেবা বঞ্চনার ফলে সমাজে বিভাজন, দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে প্রয়াস সেই ব্যবধান দূর করার লক্ষে, সকল মানুষের কাজে সহজে যেতে ও তথ্য র্পৌঁছে দিতে এবং মানুষের জীবনকে আরো বেগবান করতে উদ্যোগী হয় প্রয়াস। তাই প্রয়াস স্বপ্ন দেখেছে সমাজ রুপান্তরের একটি অন্যতম মাধ্যম হিসেব একটি কমিউনিটি রেডিও স্থাপন করা। প্রয়াস ব্রত হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও তৎসংলগ্ন জনগোষ্ঠীকে সহজে তথ্যে প্রবেশাধিকার দিয়ে, শহর ও গ্রামের মধ্যে তৈরি হওয়া তথ্য এবং জ্ঞান বিভাজন দূর করে, গণমাধ্যমে স্থানীয় মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করার মধ্যে দিয়ে তথ্য বিনিময়, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, শিক্ষা ও উন্নয়নে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় অবাধ ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রবাহের ক্ষেত্রে সেতু বন্ধন হয়ে কাজ করা। স্বপ্ন আজ বাস্তবায়িত কিন্তু যাত্রা বহুদূরের।