বাজারে আবারো দাম বেড়েছে পেঁয়াজের, উর্দ্ধমুখী মুদি বাজার

শুক্রবার :: ০৩.০১.২০২০।

বৃষ্টি ভেজা সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নিউমার্কেট বাজার ঘুরে দেখা যায় আজ ক্রেতার সংখ্যা কম ছিল। বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় পেঁয়াজের দাম বেড়ে গিয়ে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। সেইসাথে আরো বেড়েছে চিনি, সয়াবিন তেল, রশুনের দাম। সবজি বাজারে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে এবং শশার দাম কমেছে। অপরিবর্তিত রয়েছে অন্যান্য সবজির দাম। কেজি প্রতি ৩০ টাকা বেড়েছে গরুর মাংসের দাম। অপরিবর্তিত রয়েছে প্রায় সকল মুরগির দাম।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের মুদিবাজারের সাদিরুল ইসলাম ও হান্নান আলী বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে পেঁয়াজ, চিনি, সয়াবিন তেল, রশুনের দাম। গত সপ্তাহে পেঁয়াজ ৯০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে দাম বেড়ে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিনি গত সপ্তাহে ৬২ টাকাকেজি দরে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে দাম বেড়ে ৬৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন তেল ছিল ৯৫ টাকা কেজি এ সপ্তাহে দাম বেড়ে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রশুন ছিল ১৩০-১৪০ টাকা কেজি এসপ্তাহে দাম বেড়ে ১০৬-১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আদা গতসপ্তাহের দামেই (১৪০) বিক্রি হচ্ছে।
মাছের আড়তদার আব্দুল মান্নান ও মিজানুর রহমানবারে বলেন, আজকে প্রতিটি মাছের দাম কেজি প্রতি প্রায় ২০ থেকে ৪০ টাকা কম এবং বড় মাছের (৬০০-৭০০ গ্রামের উপরে) দাম কেজি প্রতি প্রায় ১০০-১৫০ টাকা কম। রাত থেকে বৃষ্টির কারণ আজ বাজারে পাইকার তেমন আসেনি। বাজারে মাছ বেশি ঢুকে গেছে, মাছের আমদানি বেশি পাইকার সংখ্যা কম এজন্য আজ মাছের দাম কম। মাছ বিক্রি না হওয়ার কারণে বরফ দিয়ে রেখেছি মাছ।
অপরদিকে, খুচরা মাছ বিক্রেতারা বলেন ভিন্ন কথা। খুচরা মাছ বিক্রেতারা মুকুল রহমান ও সাবের আলী বলেন, আজ অন্যান্য দিনের তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা বেশি হলেও আজ ক্রেতার সংখ্যা কম। রাত থেকে বৃষ্টির কারণে জেলেরা মাছ মারতে পারেনি। আজ মাছের আমদানি কম, প্রতিটা মাছের দাম বেশি। ময়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। টাকি মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজি দরে। শিলভর কাপ ১২০-১৩০ টাকা কেজি, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। তিন কেজি ওজনের রুই ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি। কেজির রুই ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি, কেজির ব্রিকেট মাছ ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। বৃষ্টির কারণে মাছের দাম ২০ থেকে ৪০ টাকা বেশি। খুচরা মাছ বিক্রেতারা বলেন, আমরা বেশি দামে কিনছি আমরা বেশির কথা বলছি। আড়তদারেরা যে দামে বেচাকেনা করছে তারা সে দাম বলছে। আড়তদারেরা বলেন আমরা যে দামে বেচাকেনা করছি সে দাম বলছি। আমাদের কাছে থেকে যখন খুচরা মাছ বিক্রেতারা কাছে মাছ যাবে তখন তারা বেশি দামে বিক্রি করবে এটাইতো স্বাভাবিক।
ইলিশ মাছের দাম গত সপ্তাহের মতোই আছে। কেজির ইলিশ ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি এবং ৫০০ গ্রামের ইলিশ ৭০০-৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন মাছ বিক্রেতা শুকুরউদ্দীন। সবজি বাজারে কথা হয় সবজি বিক্রেতা আব্দুল রশিদ ও আসবর আলী সাথে। তারা বলেন, তেমন কোন সবজির দাম কম বেশি হয় নি শুধু কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে এবং শশার দাম কমেছে। শশার দাম ১০ টাকা কমে হয়েছে ৪০ টাকা কেজি, কঁচা মরিচ গত সপ্তাহে ১৫ টাকা পোয়া বিক্রি করলেও এসপ্তাহে দাম কমে ২৫ টাকা পোয়া দামে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ঘিয়ন বেগুন ৬০ টাকা কেজি ছিল এসপ্তাহেও ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, ফুলকপি ৩০-৩৫ টাকা ছিল এসপ্তাহেও ৩০-৩৫ টাকা কেজি, কাঁচা পেঁপেঁ ২০ টাকা কেজি, বাঁধাকপি ২৫ টাকা কেজি, পেঁয়াজের ল্যাল ২৫ টাকা কেজি, দেশি করলা ১০০ টাকা কেজি, বড় মটরশুটি ৭০ টাকা কেজি, ছোটটা ১০০ টাকা কেজি, দেশি শিম ৫০ টাকা কেজি, টমেট ভালোটা ৯০ টাকা কেজি, নরমালটা ৪০ টাকা কেজি। গাজর ৪০ টাক কেজি, নতুন আলু ৩৫ টাকা কেজি , পটল ৬০ টাকা কেজি। সামনে সবজির দাম কী হবে বলতে পারছি না।
অন্যদিকে, খাসির মাংস ৭০০ টাকা ও গরুর মাংসের দাম ৫২০ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান মাংস বিক্রেতা মাসুদ রানা। প্রায় সকল মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানান বিক্রেতা শামিম ও রাইহান। এ সপ্তাহে দেশি মুরগী ৩২০ টাকা কেজি, লেয়ার ১৫০ টাকা কেজি, প্যারেন্স ১৪০ টাকা কেজি, ব্রলায় ১১০ টাকা কেজি, সোনালি ১৯-০২০০ টাকা কেজি, রাজ হাস ১২০ থেকে ১৩০ এবং পাতি হাস ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা ক্রেতারা জানান, মুরগি দাম স্বাভাবিক আছে। তবে পেঁয়াজ, সবজি ও মাছের দাম বেশি বলে মনে করেন তারা। জাহিদ হাসান ও রহিম বলেন মাছের দাম স্বভাবিক আছে। আরেক ক্রেতা হাসান ও লতিফ বলেন ছোট মাছের দাম কম মনেহলেও অন্যান্য মাছের দাম বেশি বলে মনে হচ্ছে।
ক্রেতা সুমন বলেন , সবজির দাম তো বেশি। যারা সল্প আয় করে তাদের জন্য তো কষ্টকর। এখন তো সবজির দাম লিমিটের মধ্যে থাকার কথা। আমি দেখলাম বেগুন ৬০ টাকা কেজি , শিম ৫০ টাকা কেজি এসময় তো এগুলোর দাম কম থাকা উচিৎ। সেলিম রেজা ও সুমন , হারুনারসিদ বলেন পেঁয়াজের দাম তো আবারো বাড়তে শুরু করল । এতে সাধারণ মানুষের সমস্যা হচ্ছে এটাতো জানাশোনা কথা। আমারা সাধারন মানুষ। আমাদের তো কিছু করার নাই। কিনতে হবে খেতে হবে।

Check Also

জেলাশহরে গাড়িতে করে ন্যায্যমূল্যে মুরগি ডিম ও দুধ বিক্রি শুরু

১২ এপ্রিল সোমবার, ২০২১। করোনা পরিস্থিতিতে জনসাধারণের প্রাণিজ পুষ্টি নিশ্চিতকরণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে ভ্যান ও ট্রাকে …