বড় ব্যবধানেই শ্রীলঙ্কার কাছে হারলো বাংলাদেশ

বড় ব্যবধানে হারটা অনুমিতই ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে যখন জয়ের জন্য ৫১১ রানের লক্ষ্য পেলো এবং হাতে যখন ২ দিনেরও বেশি সময় বাকি, তখন বাংলাদেশ দলের পরাজয় ছিল অবশ্যম্ভাবী। তবে, হার যখন নিশ্চিত, তখন নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ারও দারুণ একটা সুযোগ ছিল বাংলাদেশের ব্যাটারদের সামনে। কিন্তু সেটাও হলো না। বাংলাদেশের ব্যাটাররা একে একে আত্মাহুতি দিয়ে আসলেন। হাস্যকর সব আউটের পসরা সাজিয়েছেন। লিটন দাস যেভাবে আউট হলেন, তা দেখে রীতিমত অবাক সবাই। সবারই বক্তব্য, এ কোন ব্যাটার- টেস্ট খেলতে নেমেছে? একা যা একটু লড়াই করলেন মুমিনুল হক। তার ব্যাটে পরাজয়ের ব্যবধান খানিকটা কমেছে। তবুও শেষ পর্যন্ত সিলেট টেস্টে শ্রীলঙ্কার কাছে ৩২৮ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয় স্বীকার করতে বাধ্য হলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। প্রায় দেড়দিন বাকি থাকতেই টেস্ট হারলো টাইগাররা। ২ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলো শ্রীলঙ্কা। ৫১১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৮২ রানেই অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। ১৪৮ বল খেলে ৮৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন মুমিনুল হক। লঙ্কানদের হয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন কাসুন রাজিথা। বিশ্ব ফার্নান্দো ৩টি এবং লাহিরু কুমারা নেন ২ উইকেট।

শ্রীলঙ্কার টেস্ট ইতিহাসে রানের ব্যবধানে এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জয়। এর আগে ২০০৯ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষেই চট্টগ্রামে ৪৬৫ রানের ব্যবধানে জিতেছিলো তারা। যদিও তখনকার শ্রীলঙ্কা এবং বর্তমান শ্রীলঙ্কার মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশ মূলত হেরেছে লঙ্কান অধিনায়ক ধনঞ্জয়া ডি সিলভা এবং লেট মিডল অর্ডার ব্যাটার কামিন্দু মেন্ডিসের ব্যাটে। দুই ইনিংসেই প্রথমে লঙ্কানদের চেপে ধরেছিলো বাংলাদেশের বোলাররা। কিন্তু মিডল অর্ডারে গিয়ে এই দুই ব্যাটার দুই ইনিংসেই গড়ে তোলেন বড় দুটি জুটি। প্রথম ইনিংসে গড়েন ২০২ রানের এবং দ্বিতীয় ইনিংসে গড়েন ১৭৩ রানের জুটি। প্রথম ইনিংসে দু’জনই করেন সমান ১০২ রান করে। দ্বিতীয় ইনিংসে ডি সিলভা খেলেন ১০৮ রানের এবং কামিন্দু মেন্ডিস খেলেন ১৬৪ রানের ইনিংস। দু’জনই দুই ইনিংসে জোড়া সেঞ্চুরি উপহার দেন। তবে লঙ্কানদের সাফল্যের চেয়ে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ব্যর্থতাই সবচেয়ে বেশি দায়ী এই ম্যাচে। যে উইকেটে লঙ্কান ব্যাটাররা অনেক বেশি রান স্কোরবোর্ডে জমা করলো, সেখানে বাংলাদেশের ব্যাটাররা দুই ইনিংসেই উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন। প্রথম ইনিংসে ১৮৮ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয়েছে ১৮২ রানে। প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কা সংগ্রহ করেছিলো ২৮০ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে সংগ্রহ করে ৪১৮। ফলস্বরূপ তাদের জয় ৩২৮ রানের বিশাল ব্যবধানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫১১ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তৃতীয় দিন শেষ বিকেলেই একের পর এক উইকেট হারিয়েছে টাইগাররা। ৫ উইকেট হারিয়ে ৪৭ রান নিয়ে দিন শেষ করে তারা। মুমিনুল ৭ রানে এবং তাইজুল অপরাজিত ছিলেন ৬ রানে।

চতুর্থদিন সকালে ব্যাট করতে নেমে মুমিনুল এবং বাকি ব্যাটাররা চেষ্টা করেন একটু রয়েসয়ে খেলতে। কিন্তু ততক্ষণে তো খুব দেরি হয়ে গেছে। প্রথম দিকের ব্যাটাররা যদি এ বাস্তবতা বুঝে খেলার চেষ্টা করতো, তাহলে দ্বিতীয় ইনিংসে স্কোরটা আরও লম্বা হতে পারতো। চতুর্থ দিনের শুরুতেই তাইজুলকে ফিরিয়ে দেন কাসুন রাজিথা। মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ লড়ে যান মুমিনুল। ৬৬ রানের জুটি গড়েন তারা দু’জন। ৫০ বলে ৩৩ রান করেন মিরাজ। শরিফুল ৪২ বল খেলে করেন ১২ রান। পরের দুই ব্যাটার খালেদ আহমেদ এবং নাহিদ রানা কোনো রানই করতে পারেননি। সিলেট টেস্টে বাংলাদেশের ২০ উইকেটের সবগুলোই দখল করেছে লঙ্কান পেসাররা। স্পিনাররা কোনো উইকেটই পায়নি। অন্যদিকে লঙ্কানদের ২০ উইকেটের ৭টি নিয়েছে বাংলাদেশের স্পিনরা। ১১টি নিয়েছেন পেসাররা। ২টি রানআউট। শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক ধনঞ্জয়া ডি সিলভা হয়েছেন ম্যাচ সেরা। দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এবং শুরু হবে ৩০ মার্চ থেকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top