পুলিশ মেমোরিয়াল ডে পালন : কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত ৬ পুলিশ সদস্যের পরিবারকে জেলা পুলিশের উপহার সামগ্রী প্রদান

বৃহস্পতিবার :: ০১.০৩.২০১৮
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পুলিশ মেমোরিয়াল ডে পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ নয়াগোলা পুলিশ লাইন্স স্মৃতিসৌধে বেলা পৌনে ১১টায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিভিন্ন সময়ে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান। এরপর ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। পরে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের নিকট উপহার সামগ্রী প্রদান করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান। নিহত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ২০০৬ সালে নাটোরে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার শংকরবাটী এলাকার কনস্টেবল রেজাউল করিম, ২০০৬ সালে রাজশাহীতে কর্মরত অবস্থায় নিহত শিবগঞ্জ উপজেলার ছত্রাজিতপুরের কনস্টেবল শওকত আলী, ২০১৬ সালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত অবস্থায় নিহত সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের লক্ষীনারায়নপুর গ্রামের কনস্টেবল সাদেকুল ইসলাম, ২০১৬ সালে গাইবান্ধায় কর্মরত অবস্থায় নিহত শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুরের কনস্টেবল রবিউল আওয়াল, ২০১৬ সালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত অবস্থায় মারা যান নাচোল উপজেলার আমনুরা বহরইল গ্রামের কনস্টেবল নাহিদুজ্জমান এবং ১৯৯১ সালে খাগড়াছড়িতে কর্মরত অবস্থায় নিহত নায়েক মো. নূরে আলম। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান নিহত সহকর্মীদের কথা স্বরণ করে আবেগে আপ্লুত হয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এই দেশের মানুষের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে তারা মৃত্যুবরণ করেছে, তারা আজ আমাদের পাশে নেই। আমার খুব কষ্ট হয়, যখন কোন পুলিশ সদস্য সাহায্যের জন্য আসলেও আমি কিছুই করতে পারি না। উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে হেলমেট, বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ব্যবহার করবেন। আমাদের সহযোদ্ধাদের আত্মত্যাগই আমাদের শক্তি। আপনাদের কারণেই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ, রাজনৈতিক সহিংসতা রুখতে বাংলাদেশ পুলিশ সক্ষম হয়েছে। নিহত সহযোদ্ধাদের আমরা চিরদিন স্মরণ রাখব। তাদের পরিবারের খোঁজ-খবর রাখব, যেকোন বিপদে- আপদে পাশে দাঁড়াবো। এসময় নিহত কনস্টেবল নাহিদুজ্জমানের স্ত্রী শামীমা সুলতানা বলেন, জেলা পুলিশ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ আমাদেরকে এখানে আমন্ত্রণ জানার জন্য। মৃত্যুর সময় আমার স্বামী কি চেয়েছিল জানি না। একগ্লাস পানি, আমাকে দেখতে নাকি আমাদের ছোট ছোট ছেলেদের দেখতে? খুব কষ্ট হয় এসব ভেবে। দেশের সেবা করতে গিয়ে আমরা তাদেরকে হারিয়েছি, তারা তাদের সন্তানদের দেখাশোনা করতে পরেনা। তারপরেও এটা ভেবে ভালো লাগে যে, দেশের জন্য দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য আমার স্বামী মৃত্যুবরণ করেছে। অনুষ্ঠানে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি ডিবি) মাহবুব আলম, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) আতিকুল ইসলাম, ওসি অপারেশন ইদ্রিশ আলী অন্যান্য পুলিশ কর্মতারা উপস্থিত ছিলেন।

Check Also

জেলাশহরে গাড়িতে করে ন্যায্যমূল্যে মুরগি ডিম ও দুধ বিক্রি শুরু

১২ এপ্রিল সোমবার, ২০২১। করোনা পরিস্থিতিতে জনসাধারণের প্রাণিজ পুষ্টি নিশ্চিতকরণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে ভ্যান ও ট্রাকে …