পাকিস্তানে ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতে ৩৫ জনের মৃত্যু

পাকিস্তানের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে হিমায়িত বৃষ্টি ও অপ্রত্যাশিত তুষারপাতের ফলে ২২ শিশুসহ কমপক্ষে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।  মঙ্গলবার (৫ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।  পাকিস্তানের দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার থেকে পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তান, বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাত হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে ভূমিধসে পিষ্ট হয়ে বা ঘরবাড়ি চাপা পড়ে অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে ২২ জনই শিশু। এছাড়া আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা তুষারপাত দেখে অবাক হয়েছেন। কারণ মার্চ মাসে পাকিস্তানে সাধারণত আর্দ্র আবহাওয়া থাকে। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক মোশতাক আলী শাহ জলবায়ু পরিবর্তনকে এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছেন। উত্তর-পশ্চিম খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কির্ক জেলার বাসিন্দা হাজিৎ শাহ বলেন, তিনি আগে ২৫ বা ৩০ বছর আগে মাত্র একবার এ অঞ্চলে তুষারপাত দেখেছেন। সেই হালকা তুষারপাত মাত্র কয়েক মিনিট স্থায়ী ছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারী বর্ষণে অন্তত ১৫০টি বাড়ি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৫শ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার বেশিরভাগই খাইবার পাখতুনখোয়া এবং দক্ষিণ-পশ্চিম বেলুচিস্তান প্রদেশে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসে বন্ধ হয়ে গেছে রাস্তাঘাট। আকস্মিক বন্যায় অসংখ্য রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শত শত ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। অনেক জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ সরবরাহ করেছে। পাশাওয়াশি হতাহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে। পাকিস্তান আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করে বলেছে, এসব অঞ্চলে বৈরি আবহাওয়া আরও কয়েকদিন বজায় থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top