টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্র: অস্বস্তির ফরম্যাটে স্বস্তি ফিরবে

বিশ্বকাপের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দল মাঠে নামতে যাচ্ছে কিছুদিনের ভেতরে। সেই ফরম্যাটে যেখানে সবচেয়ে বেশি ‘অস্বস্তি’। ঘরের মাঠে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ দিয়ে পাঁচ মাস পর লাল বলের ক্রিকেটে মাঠে নামার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। জানিয়ে রাখা ভালো, নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্ট সিরিজ দিয়ে বাংলাদেশ আরেকটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্রে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। ২০২৩-২০২৫ চক্রে নিউ জিল্যান্ডেরও এটি প্রথম সিরিজ। টেস্ট ক্রিকেটে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয় বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। টেস্ট খেলুড়ে শীর্ষ ৯ দেশের মধ্যকার চলমান এই প্রতিযোগিতা বেশ উত্তেজনা ছড়িয়েছে। উন্মাদনাও তৈরি করেছে। বিশাল অঙ্কের প্রাইজমানির সঙ্গে সাদা পোশাকের ক্রিকেটের জৌলুস বাড়িয়েছে এই প্রতিযোগিতা। প্রথম আসরে নিউ জিল্যান্ড এবং দ্বিতীয় আসরে অস্ট্রেলিয়া জেতে টেস্ট ‘মেস’। তাসমান পাড়ের দুই দেশ চ্যাম্পিয়ন হয় ভারতকে হারিয়ে। এশিয়ার দলটি দুইবার ফাইনাল খেললেও পায়নি শিরোপা। 

বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে অবশ্য ওঠানামা নেই। গত দুটি চক্রই শেষ হয়েছে টেবিলে সবার নিচে থেকে। প্রথম চক্রে কোনো জয় না পেলেও দ্বিতীয় চক্রে বাংলাদেশ কেবল একটি জয় পায়। হোম অ‌্যান্ড অ‌্যাওয়ে পদ্ধতিতে বাংলাদেশ এবারের আসরেও খেলবে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ। মোট ম‌্যাচ হবে ১২টি। সিলেটে নিউ জিল্যান্ডকে আতিথেয়তা দিয়ে লড়াই শুরু করবে বাংলাদেশ। এবারের আসরে বাংলাদেশ কেমন করবে সেটা বিরাট প্রশ্ন। 

আগের দুইবারই পয়েন্ট তালিকার নিচে ছিল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো শুরু করতে পারলে গল্প ভিন্ন হতেও পারে। ভুলে গেলে চলবে না নিউ জিল্যান্ডকে গত বছর বাংলাদেশ হারিয়েছিল তাদের মাটিতেই। সেটাও তামিম, সাকিবদের ছাড়াই। এবারও সিলেটে সেই তামিম ও সাকিব নেই। মুমিনুল, মুশফিক, শান্তদের তাই বড় দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ক্রিকেট খেলতে না পারায় বাংলাদেশকে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে তা অজানা নয় কারোই। নিজেদের সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যের ফরম্যাট ওয়ানডেতে ভরাডুবি হয়েছে। টেস্ট ক্রিকেট এমনিতেও এই ক্রিকেটারদের ‘অস্বস্তির’ জায়গা। পরিসংখ্যান তো তা-ই বলছে, ১৩৮ টেস্টে ১০২ হার। জয় ১৮টি, ড্র-ও ১৮টি। তাই এবারের চক্রে সেই একই চিত্র পাল্টানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ।

তবে প্রতিটি ভোর নতুন আশা দেখায়। বাংলাদেশের ক্রিকেট আকাশেও যদি টেস্ট ক্রিকেটের ভাগ্য পরিবর্তন হয় তাহলে তো ভালোই। ফল নিজেদের পক্ষে না আসুক, শেষ কিছুদিন ধরে লড়াই করার যে মানসিকতা হারিয়ে ফেলেছেন ক্রিকেটাররা, ম্যাচ হারের আগে হেরে যাওয়ার মানসিকতা হয়েছে সেখান থেকে বের হয়ে আসতে পারলেও পরবর্তী সিরিজগুলোতে সুফল মিলবে।  নিউ জিল্যান্ডের পর বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা ও  দক্ষিণ আফ্রিকাকে আতিথেয়তা দেবে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কা ও অক্টোবর-নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশে আসবে। বাংলাদেশ ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান সফর করবে। পাকিস্তান ও ভারত সফর করবে যথাক্রমে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে এবং ’২৪ এর শেষ দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে নিজেদের শেষ টেস্ট চ‌্যাম্পিয়নশিপের ম‌্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। প্রতিটি সিরিজেই রয়েছে দুটি করে টেস্ট ম‌্যাচ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top