জেলার বাজারে নাই ক্রেতার সমাগম, কমেছে মাছ ও সবজীর দাম

শুক্রবার :: ২০.১২.২০১৯।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মাছ বিক্রেতা জাহিদুল ইসলাম বলছেন,“ শিলভর, ব্রিকেট, মাগুর এসব মাছের দাম কমেছে। গত সপ্তাহে শিলভরকাপ বিক্রি হয়েছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে এ সপ্তাহে দাম কমে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে। বড় শিলভার কার্প মাছের দাম ১২০ টাকা কেজি। রুই, মিরকা, কাতল এ মাছগুলো বিক্রি হচ্ছে ১০৬ টাকা থেকে ১৮০ টাকা কেজি দারে। আর বড়গুলো ২০০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি দরে”। তিনি আরো বলেন “ধান কাটাকাটি শেষ করে এখন সবাই মাছ মারা নিয়ে ব্যস্ত। যতগুলো পুকুর ছিল, এখন সব পুকুর থেকে সম্পূর্ণ মাছ মেরে নিয়ে চলে আসছে। যার কারণে মাছের আমদানি বেশি। তবে শীতের কারণে ক্রেতার সংখ্যা কম তাই মাছের দাম কমেছে”। মাছ বিক্রেতা আয়েশ বলেন, “আজকে ক্রেতার সংখ্যা একেবারে কম। ৭০০-৮০০ গ্রামের মিরকা ১৮০ টাকা পোয়া, ছোট পাঙ্গাস ১৩০ টাকা কেজি, বড় কাতর ৩৬০ টাকা কেজি”। মাছ বিক্রেতা আয়েশ বলেন,“খুচরা মাছ বিক্রেতা মুকুল বলেন, “১০০- ২০০ গ্রামের মিরকা ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পোয়া, ছোট ময়া ১৫০ টাকা ও বড় ময়া মাছ ১৮০ টাকা পোয়া। বাজারে যেখানে ২০ কেজি মাছ বিক্রি করেছি সেখানে আজ ১০ কেজি মাছ বিক্রি করতে পারিনি। ব্যবসা অনেক খারাপ, আমাদের আবস্থা একেবারে কঠিন”। মাছ বিক্রেতা শুকুর উদ্দীন বলেন, “ইলিশ মাছের দাম হত সপ্তাহের মত আছে ৫টি ইলিশে এক কেজি এই ইলিশ ৩০০ টাকা কেজি, যে গুলো ৩ টায় ১ কেজি সেগুলো ৪০০ টাকা কেজি, ৮০০ গ্রামের ইলিশ ৮৫০ টাকা কেজি এবং কেজির ইলিশ ১২০০ টাকা কেজি”।
সবজি বাজারে সবজি বিক্রেতা আব্দুল রশিদ ও বাদশা বলেন “গত সপ্তাহের তুলনায় কমেছে আলু, ফুলকপি, বাধাকপি, শিম, পালংক শাকসহ শীতকালীন প্রায় সকল সবজির দাম। নতুন আলু ৩৫ টাকা থেকে কমে ৩০ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা থেকে কমে ২৫ টাকা, বাধাকপি ৩০ টাকা থেকে কমে ২৫ টাকা, দেশি শিম ৬০ টাকা থেকে কমে ৪০ টাকা, করলা ১০০ টাকা থেকে কমে ৮০ টাকা, বরবট্টি ৮০ টাকা থেকে কমে ৬০ টাকা, শশা ৫০ টাকা থেকে কমে ৪০ টাকা, পেঁপেঁ ২০ টাকা থেকে কমে ১৬ টাকা কেজি এবং পালংক শাক ২৫ টাকা থেকে কমে ১৫-২০ টাকা আটি দরে বিক্রি হচ্ছে”। বিক্রেতারা বলছেন সবজির দাম কম হলেও শীতের কারনে ক্রেতার সংখ্যা অনেক কম।
মুদি বাজারে নতুন আতপ চাল ৭৫ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ৮৮ টাকা থেকে বেড়ে ৯০-৯২ টাকা এবং আদা ১৩০-১৪০ টাকা বেড়ে ১৫০-১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অপর দিকে কমেছে ডিম, রসুনের দাম। ডিম ৩২ টাকা হালি থেকে কমে ২৮ টাকা হালি ও রসুন ১৩০ টাকা থেকে কমে ১১৫-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে”। তারা জানান পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। অন্যদিকে, খাসির মাংস ৭০০ টাকা ও গরুর মাংস ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানায় মাংস বিক্রেতা মাসুদ রানা। এ সপ্তাহে প্রায় সকল মুরগীর দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা কমেছে বলে জানায় মুরগীর বিক্রেতা সেলিম রেজা ও শরিফুল।
বাজার করতে আসা ক্রেতাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, মুরগী ও মাছের দাম দাম স্বাভাবিক আছ। তবে সবজীর দাম নিয়ে মিশ্র জানায় প্রতিক্রিয়া। মাছ ক্রেতা তারেক ও সালউদ্দিন বলেন,“ মাছের দাম স্বাভাবিক আছে”। আজকে বাজার করতে ভালোলাগছে কারণ প্রায় সকল পণ্যের দাম এবটু কম লাগছে। মুরগী ক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন “ মুরগীর দাম কম মনে হচ্ছে। আমি বেগুন নিলাম ৪০ টাকা কেজি। বেগুন এই সময় ২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। মনে হচ্ছে সবজির দাম বেশি। তবে আজ সবজির দাম আরও একটু কম হওয়া উচিত ছিল”। সবজি ক্রেতা কাদের ও মিজানুর বলেন, “সবজির দাম কম, আনেক কম। পণ্যের দাম কমলেতো সবাই ভালোলাগে। তাই আমারো বাজার করতে খুব ভালো লাগছে। তবে পেঁয়াজের দাম আরো কমলে ভালো হত। আমরাতো ২০ টাকা কেজি পেঁয়াজ খায়। সে দিক দিয়ে দেখতে গেলে পেঁয়াজের দাম অনেক”।

Check Also

জেলাশহরে গাড়িতে করে ন্যায্যমূল্যে মুরগি ডিম ও দুধ বিক্রি শুরু

১২ এপ্রিল সোমবার, ২০২১। করোনা পরিস্থিতিতে জনসাধারণের প্রাণিজ পুষ্টি নিশ্চিতকরণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে ভ্যান ও ট্রাকে …