চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল :মেহমান’এর ৫ টাকায় মেহমানদারি

শুক্রবার :: ১৭.০১.২০২০।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসছেন রোগীরা। চিকিৎসার কারণে অনেককে হাসপাতালে ভর্তিও থাকতে হচ্ছে। ১০০ শয্যার হাসপাতালে রোগী থাকে ১৫০ থেকে ২০০রও বেশি। তাই প্রতিদিন এতগুলো রোগীকে খাবার সরবরাহ করা সম্ভব হয় না কর্তৃপক্ষের। যারা খাবার পান না সেসব রোগী বা রোগীর আত্মীয়স্বজনদের খাবার নিয়ে এখন আর দুশ্চিন্তা করতে হয় না। কেননা মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে মিলে রাতের খাবার। মাত্র পাঁচ টাকায় খাবার সরবরাহ করছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি অলাভজনক সংগঠন ‘মেহমান’। সংগঠনটির উদ্দেশ্যই হচ্ছে হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা কোনো রোগী বা রোগীর স্বজন যেন টাকার অভাবে অভুক্ত না থাকেন। জানা গেছে, সদর আধুনিক হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ১০০। কিন্তু প্রতিদিনই অতিরিক্ত রোগী ভর্তি হন। সে সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০ বা কখনো তারও বেশি। যেসব রোগী বেড ছাড়া মেঝেতে বা বারান্দায় ভর্তি হন তাদের জন্য কোনো খাবার বরাদ্দ থাকে না। এছাড়া অনেকেই আছেন যারা দূর থেকে চিকিৎসা সেবা নেয়ার জন্য হাসপাতালে এসে ভর্তি হন, তাদের এবং স্বজনদের ৩ বেলা খাবার কিনে খাওয়া বা বাড়ি থেকে আনা কষ্টকর হয়ে উঠে। আর এসব রোগী ও স্বজনদের কথা চিন্তা করে প্রায় ১ বছর থেকে অলাভজনক একটি প্রতিষ্ঠান মেহমান’ এ মহতী উদ্যোগ নিয়েছে। সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, তাদের সাধ থাকলেও সাধ্য নেই। তাই প্রতিদিন খাবার না দিতে পারলেও সপ্তাহে ৩ দিন রাতের খাবার সরবরাহ করে থাকে সংগঠনটি। যেখানে রোগীরা এসে ৫ টাকায় পেটভরে খিচুড়ি কিনে খেতে পারছে। কথা হয় জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার তেররশিয়া থেকে আসা এক নারীর সাথে। তার স্বজনকে এখানে ভর্তি হয়েছেন। বাড়ি থেকে খাবার আনাও সম্ভব নয়। কিনে খাবার মতো সামর্থ্যও নেই। তাই এই ৫ টাকায় মেহমান’র খাবার পাওয়াতে অনেক উপকার হচ্ছে তার বলে জানান তিনি। কবির নামে আরেক রোগীর সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, এত কম টাকায় পেটভরে খাবার পাওয়া যায়, যা আমাদের গরিব মানুষদের জন্য খুব ভালো। শিবগঞ্জের কানসাট থেকে আসা ফরিদা বলেন, রোগীসহ আরো দুজন আছি এই হাসপাতালে। রোগী খাবার পেলেও আমরা পাই না। আর আমাদের শহরে কোনো আত্মীয়স্বজন নেই। যে কারণে আমাদের মতো যারা দূর থেকে আসছেন, তাদের জন্য এ ব্যবস্থা অনেক ভালো। আমরা চাই প্রতিদিনই খাবার সরবরাহ করা হোক। এখন হয়তো একবেলা দেয়া হচ্ছে এটা যেন সকালে বা দুপুরেও দেয়া হোক। এ বিষয়ে কথা হয় সংগঠনটির সদস্য আমিনুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, মাঝে মধ্যেই দেখতে পাই অনেকে না খেয়ে রাত কাটিয়ে দেন যেটা আমাদের কাছে খুব পীড়াদায়ক। সেই জায়গা থেকে হঠাৎ করে আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে গতবছর মার্চ মাসে এ রকম একটা উদ্যোগ নিই এবং এটা এখনো চলমান রয়েছে। আশা করছি ভবিষ্যতেও থাকবে। সদস্য গিয়াসুর রহমান মবিন বলেন, এটি অলাভজনক কার্যক্রম। এখানে আমরা লাভ করি না। তিনি বলেন, প্রতিদিনি চাল ডাল সবজি নিয়ে ২০ থেকে ২২ কেজি রান্না করা হয়। প্রথম দিকে তেমন সাড়া না ফেললেও এখন চাহিদা বেড়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৪০ জন রোগীকে খাবার সরবরাহ করা হয় বলে জানান তিনি। বিনিময়ে রোগীদের কাছ থেকে ৫ টাকা নেয়া হয়। এই টাকা বাবুর্চি, রান্নার সামগ্রী কেনার জন্য। কখনো এই টাকায় হয় আবার কখনো কম টাকা উঠে। অনেক সময় আমাদের আরো যোগ করতে হয়।
সদস্য জহিরুল ইসলাম মাখন বলেন, সংগঠনটির উদ্দেশ্য হলো হাসপাতালে থাকা কোনো রোগী বা তার স্বজন যেন টাকার অভাবে অভুক্ত না থাকেন। আশার কথা হলো, আগের তুলনায় এই সংগঠনে দাতার সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ জন সদস্য আছে এর সঙ্গে জড়িত। তিনি আরো বলেন, এক দিনের জন্য খরচ হয় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। সদস্যরা একদিন একদিন করে এই খরচ বহন করে থাকি। তিনি বলেন, আমাদের চেষ্টা ৩৬৫ জন সদস্য করার। তাহলে বছরের প্রতিটি দিনই আমরা খাবার সরবরাহ করতে পারব। মাখন আরো বলেন, অনেকে দেশের বাইরে থেকে তাদের সাহায্য করছেন। আবার পাশে থেকে এই কার্যক্রমকে অনেকে সাধুবাদও জানাচ্ছেন। সমাজে যারা বিত্তবান আছেন তারা যদি একটু এগিয়ে আসেন তাহলে ‘মেহমান’ যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে তা সফল হবে বলে আশাবাদ এই অলাভজনক সংগঠনের সদস্যদের।

Check Also

জেলাশহরে গাড়িতে করে ন্যায্যমূল্যে মুরগি ডিম ও দুধ বিক্রি শুরু

১২ এপ্রিল সোমবার, ২০২১। করোনা পরিস্থিতিতে জনসাধারণের প্রাণিজ পুষ্টি নিশ্চিতকরণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে ভ্যান ও ট্রাকে …