চাঁপাইনবাবগঞ্জে পালিত হলো ১২তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস

মঙ্গলবার :: ০২.০৪.২০১৯
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সহায়ক প্রযুক্তির ব্যবহার, অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তির অধিকার এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ১২তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা ও প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের আয়োজনে র্যা লি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আজ সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে র্যা লি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। এ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, সিভিল সার্জন ডা.এসএফএম খায়রুল আতাতুর্ক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর সার্কেল) মো. ইকবাল হোসাইন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলার বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তাসহ অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তি ও অভিভাবকগণ। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নূর মোহাম্মদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক। এ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, সিভিল সার্জন ডা.এসএফএম খায়রুল আতাতুর্ক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর সার্কেল) মো. ইকবাল হোসাইন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলার বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তাসহ অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তি ও অভিভাবকগণ। জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর একটা কথা বার বার বলা হচ্ছে, আজকে যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে সেটার বাইরে কেউ থাকবে না। আমরা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবো, এটা আরেকটা মূল কথা। সামাজিক ন্যায় বিচার থাকবে, কোনো অন্যায় থাকবে না। আজকে এখানে যে তথ্য পাওয়া গেল, আমাদের জেলায় বিভিন্ন রকমের প্রতিবন্ধী মিলে ২২ হাজার ৭শ ৭৯ জন আছে। তারা আমাদের ভাই, তারা আমাদের বোন, তারা আমাদের সন্তান। একেক জন একেক রকমের প্রতিবন্ধীÑ শারীরিক প্রতিবন্ধী, অটিজম প্রতিবন্ধী, শ্রবণ-দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ইত্যাদি। তাই ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট অর্থাৎ উন্নয়নের আওতায় সবাইকে নিয়ে আসতে হলে, এই বিভিন্ন রকমের প্রতিবন্ধী মানুষকে বাইরে রাখলে ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট হবে না। সত্যিকারের অর্থে ডেভেলপমেন্ট হবে না। তিনি আরো বলেন, আমরা কেউ কেউ যারা খুবই অবিবেচক তারা বলে থাকেন, এটা পাপের ফসল, এটা অভিশাপ ইত্যাদি। এগুলো খুবই অন্যায় কথা, অনৈতিক কথা, বেআইনি কথা। একথাগুলো বলা যাবে না। যদি কেউ বলে থাকেন, তাহলে তিনি অন্যায় করেছেন। দেশের আইনেও তিনি অপরাধী এমনকি ধর্মীয় আইনেও তিনি অপরাধী। তাই যাদের এরকম সন্তান আছে তারাকে কখনো ঘরে বন্দী বা আলাদা করে রাখবো না। তাকে সমাজের মধ্যে মূল ধারায় ইনক্লুড করতে হবে। অনেকেই তাকে বাইরে নিয়ে যান না, লজ্জাবোধ করেন। এটা মনে করা মোটেই সঠিক কাজ না। যেকোন জায়গায় তাকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া উচিত। তাহলে সে কিছুটা হলেও শান্তি পাবে, আনন্দ পাবে। আগে দেখা যেত, এই অটিজম প্রতিবন্ধীকে কেউ বাইরে নিয়ে কোথাও গেলে রাস্তায় অনেকেই ঢিল মারতো, বিরক্ত করতো, উত্যক্ত করতো। কিন্তু বর্তমানে সেটার পরিমাণ অনেক কম। তারপরেও এসব বিষয়ে আমরা সচেতন থাকবো। এসব ব্যক্তিকে আমরা সম্মান করবো, ¯েœহ করবো। সকল প্রকার অন্যায়, অনৈতিক আচরণ থেকে বিরত থাকবো। এই প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারের নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তাদেরকে ভাতা প্রদান করা হয়। আর এই অটিজম প্রতিবন্ধীদের মধ্যে যারা এখনও ভাতা পায় না তাদেরকেও ভাতা দিয়ে অটিজমদের শতভাগ ভাতা নিশ্চিত করবো সবাই মিলে। সকলের উদ্যোগেই এসব প্রতিবন্ধীদের সহযোগিতা করা সম্ভব। যদি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কোন সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, তাহলে আমি সেসব ব্যাপারে অবশ্যই সহযোগিতা করবো। বিভিন্ন ধরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে আসবো। সামনে বৈশাখী মেলা উদযাপন করা হবে তখনও যেন সবাই এসব প্রতিবন্ধীদের নিয়ে আসে। তিনি আরো বলেন, এসব প্রতিবন্ধীদের সহযোগিতা করার মানুষের সংখ্যা খুবই কম। যারা সামাজিক, মানবিক দায়িত্ব পালন করবেন এরকম লোকের সংখ্যা আমরা বাড়াবো, খুঁজে বের করবো। যদি আমাদের আর্থিক সামর্থ্য না থাকে তবে সে ক্ষেত্রে আমাদের জেলায় অনেক আর্থিক স্বাবলম্বী ব্যক্তি আছেন। তাদের কাছে আমরা সহযোগিতা চাইবো। জেলায় যেসব প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠান আছে সেসব প্রতিষ্ঠানে আমি অবশ্যই যাবো এবং তাদেরকে যথাসাধ্য সহযোগিতা করবো। সমাজে যারা বিত্তবান আছেন তাদেরকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহবান জানান। সব মিলিয়ে আমরা সবাই জেলার সকল প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ করে অটিষ্টিক মানুষদের নিয়ে কাজ করবো। তাই শপথ করি, প্রতিবন্ধীদের উদ্দেশ্যে আমরা সবাই কোনো না কোনো ভাবে ভূমিকা রাখবোই। তাদেরকে আমরা কখনই অভিশাপ মনে করবো না, পাপের ফসল মনে করবো না। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নূর মোহাম্মদ বলেন, প্রতিটি বাড়ি, অফিস ও প্রতিষ্ঠানে আজ থেকে কম পক্ষে ৩দিন নীল বাতি প্রজ্বলন করতে হবে। এটি সরকারি সিদ্ধান্ত। তাই সকলকে নীল বাতি প্রজ্বলনের আহবান জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, এ পর্যন্ত আমরা ২৫১ জন অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তি বাছাই করেছি। তাদের মধ্যে যারা শতভাগ ভাতা পায় না তাদেরসহ সকলকেই শতভাগ ভাতা দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। প্রতিবন্ধীদের যেকোন সমস্যার জন্য সকলকে তাঁর দফতরে আসার আহবান জানান। তিনি বলেন, আমরা আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিব।

Check Also

বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ অর্জনকারী আটজনকে সংবর্ধনা

১৫ অক্টোবর ২০২২, শনিবার। জেলায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী আটজনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। আমরা ৯৩ …