আবারো কমেছে পেঁয়াজের দাম, আমদানি কম থাকায় বেড়েছে ছোট বড় প্রায় সকল মাছের দাম

শুক্রবার :: ১৭.০১.২০২০।

জেলার বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। সবজি বাজারে মটরশুটি, শশা ও দেশি করলার দাম বেড়েলেও কমছে শীতকালীন কিছু সবজির দাম। এদিকে, মুদিবাজারে কমেছে পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল ও চিনির দাম। বেড়েছে আটাস চালের দাম। অন্যদিকে, আমদানি কম থাকায় বেড়েছে কিছু মুরগী ও ছোট বড় প্রায় সকল মাছের দাম বেড়েছে। স্থিতিশীল রয়েছে আদা, রশুন, ডিমসহ প্রায় সকল মুদিপণ্যের দাম। মুদি পণ্য বিক্রেতা সাদিরুল ইসলাম ও শাহালাল আলী বলেন, গত সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজ ১৪০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে দাম কমে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আটাস চাল গত সপ্তাহে ছিল ৩৮ টাকা এসপ্তাহে আছে ৪০ টাকা কেজি। চিনি গত সপ্তাহে ৬৪ টাকাকেজি দরে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে দাম কমে ৬২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রশুন ১৫০-১৬০ টাকা কেজি ও আদা ১৩০ থেকে ১৪০ টাকাকেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিম ৩২ টাকা হালি। এদিকে, সবজি বাজারে সবজি বিক্রেতা আব্দুল রশিদ ও শহিদুল ইসলাম বলেন সবজির দাম নিম্নমূখি। কিছু সবজির দাম বাড়লেও কমেছে শীতকালীন প্রায় সকল সবজির দাম। শশা গত সপ্তাহে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলেও এসপ্তাহে দাম বেড়ে ৫০ টাকা কেজি, দেশি করলা ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকা কেজি, মটরশুটি কেজি প্রতি ১০ টাকা বেড়ে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রে হচ্ছে। ঘিয়ন বেগুন ৫০ টাকা থেকে কমে ৪০ টাকা কেজি, আলু ২৫ টাকা থেকে কমে ২০-২২ টাকা কেজি, ফুলকপি ৩০ টাকা থেকে কমে ২০ টাকা কেজি এবং গত সপ্তাহে বাধাকপি ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলেও এসপ্তাহে দাম কমে ২০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে। আমদানি বেশি থাকায় কমেছে টমেটোর দাম। গাছ পাকা টমেটো গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৭০- ৮০ টাকা দরে এসপ্তাহে দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে। মেডিসিন মারা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে। তারা আরো বলেন, আরো কিছু সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে যেমন, সাধারণ বেগুন ৩০-৩৫ টাকা কেজি, পেঁপে ২০-২৫ টাকা কেজি, ভালো গাজর ৩০ টাকা কেজি, নরমালটা ২০-২৫ টাকা কেজি, শিম ৩০-৩৫ টাকা কেজি। লাউ ৩০ টাকা পিস। কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা কেজি। সামনে সবজির দাম কমতে পারে, শীতকালীন সবজি যত দিন থাকবে সবজির দাম সহনীয় থাকবে। এখন সবজির দাম নিয়ে কারকোনো সমস্যা নেয়। সবজি এখন সবার নাগালের মধ্যে। ব্যবসা বেশ ভালো চলছে। ক্রেতার সংখ্যা যথেষ্ট বলেও জানান তারা। অন্যদিকে, মাছ বাজার রয়েছে গরম। আমদানি কম এবং নদীর মাছ কম থাকায় ছোট-বড় সকল মাছের দাম বেশি বলছেন বিক্রেতারা। মাছ বিক্রেতা সাবের আলী বলেন আমদানি কাম থাকায় কিছু কিছূ মাছের দাম কেজি প্রতি ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। আজকে এক কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের রুই ২৪০-২৬০ টাকা কেজি, কেজির কালবাউজ ২৫০ টাকা কেজি, ২ কেজির কাতল ২০০ টাকা কেজি, চিংরি মাছ ৬০০ টাকা কেজি, মিরকা ২০০-২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা মাছ বিক্রেতা মুমতাজুল আলী বলেন, গোটি মাছ ২৮০ টাকা কেজি, কুয়াই ৪৮০ টাকা কেজি, চাষ করা সরল পুটিঁ ১৮০ টাকা কেজি, পিয়লি ৫৬০ টাকা কেজি। আজ বাজারে মাছ কম তাই সকল মাছের দাম বেশি। আজরেক বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কম । আরেক মাছ বিক্রেতা শুকুর উদ্দীন বলেন, অন্যান্য মাছের দাম স্বাভাবিক থাকলেও নদীর মাছের দাম কেজি প্রতি প্রায় ১০০ টাকা বেশি। তবে চাষ করা মাছের দাম স্বাভাবিক আছে। আজকে কেজির ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১০৫০ থেকে ১১০০ টাকা কেজি ও ৫০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে। শীতকালে মাছের দাম কম থাকবে বলে আমা করছের তারা বিক্রেতারা।
মাছের আরোতদার লতিফুর রহমান বলেন, আজকের দিনে মাছ বাজারে পাইকারের সংখ্যা বেশি হয় তাই আজকেও বেশি। আজ বড় মাছের দাম ৮-১০ টাকা বেড়েছে। যেমন, গø¬াসকাপ ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২২০ টাকা কেজি, জাপানি মাছ গত সপ্তাহে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলেও এসপ্তাহে দাম বেড়ে ১৭০-১৭২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নদীতে মাছ না থাকার কারণে নদীর মাছের আমদানি অনেক কম। তাই নদীর মাছের দাম কেজি প্রাতি প্রায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি।
মাংস বাজারে গিয়ে দেখা যায় খাসির মাংস ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং গরুর মাংস ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রে হচ্ছে বলে জানায় মাংস বিক্রেতা আব্দুল হাকিম, সেলিম ও মজাফের। অন্যদিকে, গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে প্যারেন্স, লাল লেয়ার ও দেশি মুরগীর দাম। কমেছে সোনালি মুরগীর দাম। দেশি মুরগী কেজি প্রতি ১০-১৫ টাকা বেড়ে ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি, প্যারেন্স কেজি প্রতি ৫ টাকা বেড়ে ১৪৫ টাকা কেজি, লাল লেয়ার কেজি প্রতি ১০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি কেজি প্রতি ৫ টাকা কেমে ১৮০টাকা কেজি, পাকিস্তানি ১৮০ টাকা কেজি, ব্রয়লায় ১০৫-১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রাজ হাঁস ১০০০-১২০০ পাতি হাস ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানায় মুরগী বিক্রেতা সেলিম রেজা ও মাসুদ। মুরগী বিক্রেতারা বলছেন, আমদনি কম থাকার জন্য মুরগীর দাম বেশি তবে শীত যতদিন থাকবে মুরগীর দাম কম থকবে। গরুর মাংস কিনতে আসা নুরুজ্জামান বলেন, মাংসের দাম একটু বেশি বলে মনে হচ্ছে। খাসির মাংস মাংস কিনতে আসা লিবারন বলেন দাম স্বাভবিক আছে। তানভির আহাম্মদ সজল বলেন মুরগির দাম একটু বেশি বলে মনে হচ্ছে। সবজি ক্রেতা মারুফ ও শহিদুল ইবলাম বলেন, সবজির দাম স্বাভাবিক আছে। তবে কিছু সবজির দাম বেশি। মাছ কিনতে আসা এনামুল হক বলেন, মাছের দাম একটু বেশি লাগছে। দেলয়ার হসেন বলেন মাছের দাম স্বাভাবিক আছে। পেঁয়াজের দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ কমলেও তারা চান পেঁয়াজের দাম যেন স্বভাবিক পর্যায়ে আসে।

Check Also

জেলাশহরে গাড়িতে করে ন্যায্যমূল্যে মুরগি ডিম ও দুধ বিক্রি শুরু

১২ এপ্রিল সোমবার, ২০২১। করোনা পরিস্থিতিতে জনসাধারণের প্রাণিজ পুষ্টি নিশ্চিতকরণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে ভ্যান ও ট্রাকে …