আজ বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের ৫২তম শাহাদতবার্ষিকী

বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীরের ৫২তম শাহাদতবার্ষিকী আজ। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা নদীর তীরে রেহাইচর নামক স্থানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুলিতে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁকে বাংলার পুরাতন রাজধানী গৌড়ের ছোট সোনামসজিদ প্রাঙ্গণে যথাযোগ্য মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। (তাঁর মাজারের সাথেই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মেজর নাজমুল হককেও সমাহিত করা হয়)।
জানা যায়, তদানীন্তন রাজশাহী জেলার নবাবগঞ্জ মহকুমা শহর (বর্তমান চাঁপাইবনাবগঞ্জ জেলা শহর) দখলের জন্য লে. কর্নেল কাজী নূরুজ্জামান ৩টি দল গঠন করেন। প্রথম দলের দায়িত্ব দেন ক্যাপ্টেন (ব্রিগেডিয়ার অব.) গিয়াস উদ্দিনের ওপর, দ্বিতীয় দলের দায়িত্ব দেন মেজর (লে. কর্নেল অব.) রশিদকে। তৃতীয় দলের দায়িত্ব পান ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর।
নির্দেশ অনুযায়ী ক্যাপ্টেন গিয়াস চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার হরিপুর-দ্বারিয়াপুর, রাজারামপুর এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে রাজশাহীর সাথে চাঁপাইনবাবগঞ্জের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। মেজর রশিদ উত্তর দিক থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। ৭১-এর ১২ থেকে ১৩ ডিসেম্বর ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর পশ্চিম দিক দিয়ে লে. কাইয়ুম, লে. আওয়ালসহ ২০০ মুক্তি সেনা নিয়ে এগিয়ে আসেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর বারঘরিয়া এলকার আকন্দবাড়িয়া ফেরিঘাট দিয়ে মহানন্দা নদী পার হয়ে পৌর এলাকার মোহনপুরে অবস্থান নেন।
ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর ছিলেন অসীম সাহসী, দৃঢ় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এক সেনা কর্মকর্তা। বাঙালি নিধন আর মা-বোনের সম্ভ্রমহানী তাঁকে যুদ্ধ জয়ে আরো দৃঢ় করে তুলেছিল। ১৪ ডিসেম্বর সূর্য ওঠার আগেই শুরু করলেন অভিযান। অস্ত্র হাতে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার মোহনপুর থেকে টিকরামপুর হয়ে মহানন্দা নদী তীর দিয়ে বীরবিক্রমে এগিয়ে চলেন। পেছনে তাঁর মুক্তি সেনার দল। দখল করছেন একের পর এক শত্রুঘাঁটি। লক্ষ্য একটাই, আজকের মধ্যেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ শত্রুমুক্ত করতে হবে। সকাল ৯টার দিকে তিনি বর্তমান মহানন্দা সেতু সংলগ্ন রেহাইচর এলাকয় পৌঁছে যান। কিছুক্ষণের মধ্যে মুক্ত হবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ। দলবল নিয়ে তিনি এগিয়ে চলেছেন। এমন সময় শত্রুর একটি বুলেট এসে বিদ্ধ হয় তাঁর কপালে। মুহূর্তের মধ্যে তিনি লুটিয়ে পড়েন মাটিতে। সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন বাংলা মায়ের বীরসন্তান ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর।
ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীরের স্মৃতি রক্ষার্থে মহানন্দা নদীর ওপর নির্মিত বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সেতুর নামকরণ করা হয় ‘ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু’ এবং তাঁর শহীদ হওয়ার স্থানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বর্তমান কার্যালয় চত্বরে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিসৌধ। এছাড়াও দুটি কলেজের নামকরণ করা হয় তাঁর নামানুসারে।
এই বীরশ্রেষ্ঠের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছেÑ আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের শাহাদতবরণ স্থলে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল সাড়ে ১০টায় সোনামসজিদ প্রাঙ্গণে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ও শহীদ মেজর নাজমুল হকের সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বেলা ১১টায় সোনামসজিদ স্থলবন্দর সংগ্ন শহীদদের গণকবরে শ্রদ্ধা নিবেদন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top