৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২০শে মে, ২০১৯ ইং | ১৫ই রমযান, ১৪৪০ হিজরী | মঙ্গলবার | রাত ১:২১ | গ্রীষ্মকাল
সর্বশেষ সংবাদ
Bangla Font Problem?

শেষ হলো ২ দিন ব্যাপী যুব সম্মেলন ২০১৯

সোমবার :: ০৮.০৪.২০১৯।

তোরা সব জয়ধ্বনি কর-এই প্রতিপাদ্যে ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রে ২ দিনব্যাপী যুব সম্মেলন-২০১৯ এর সমাপনি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাঠপর্যায় থেকে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচিত প্রায় ১,৬০০ যুব প্রতিনিধির অংশগ্রহণে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল সম্মেলনটির উদ্বোধন করা হয়। সম্মেলনের দ্বিতীয় ও সমাপনী দিনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে ১ম অধিবেশনে যুবদের দৃষ্টিতে আর্থ-সামাজিক বৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তন, এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তৃণমূল থেকে আসা যুবরা। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী, এমপি, এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) আবুল কালাম আজাদ।
এসময় ১ম অধিবেশনে প্রধান অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, যুবরা শুধু ভবিষ্যতের নয়, বর্তমানেরও নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তৃণমূলের যুবদের ভাবনাকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতে সংসদীয় কমিটির কার্যক্রমসমূহে পিকেএসএফ-এর মাধ্যমে যুবদের আমন্ত্রণ জানানোর উদ্যোগ নেয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সমাজ উন্নয়নে যুব সমাজের আকাঙ্ক্ষা এবং আগ্রহ আশাব্যাঞ্জক উল্লেখ করে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, যুব সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যে সরকার শিগগিরই প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে ‘স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি’ গঠন করা হয়েছে যা শিল্প প্রতিষ্ঠানের জনবলের চাহিদার নিরীখে বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করবে বলে। সেমিনার শেষে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ‘যুব সম্মেলন ২০১৯’-এর সমাপনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। পিকেএসএফ চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া, এমপি। প্রান্তিক পর্যায়ে টেকসই উন্নয়নে পিকেএসএফ-এর বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ‘সমৃদ্ধি’ কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত ‘উন্নয়নে যুব সমাজ’ কার্যক্রমের মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনের প্রচেষ্টা আরও বেগবান হয়েছে। আমাদের বাংলার যুবক যুবতীদের কে পিকেএসএফসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদেরকে উন্নয়নের দিকে ধাবিত করছেন এটি একটি বিরল ঘটনা। আমি আপনাদেরকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যে, আপনারা আপনাদের দেশের উন্নয়নের জন্য আপনাদের হাতগুলো যেভাবে সম্প্রসারিত করেছেন এইভাবে অব্যাহত শুধু থাকবেনা এটার অগ্রযাত্রা আরোও দিন দিন বেড়ে যাবে। এই প্রত্যয় নিয়ে আপনারা আপনাদের এলাকায় ফেরত যাবেন এটাই আজকে আমি আপনাদের কাছে আশা করি। একটি অনুরোধ করব, আমি যদি কোন ভাল কাজ করি, আবার নাও করতে পারি, কোন ব্যক্তির স্বার্থে বা সমাজের স্বার্থে বা কোন গোষ্ঠীর স্বার্থে তাহলে কিন্তু দেশের উন্নতি করতে পারছি না। আমাকে দিয়ে যেন কোন খারাপ কাজ কেউ না করাতে পারে। এটাই যদি আমি অন্তত পক্ষে করতে পারি তাহলে আমাদের দেশ উন্নতি করবে। কারণ, যে জাতি নয় মাস যুদ্ধ করে পাকিস্তানের মত একটি শাসক গোষ্ঠীকে পরাজয় করে যদি দেশ স্বাধীন করতে পারে সেই জাতি কি না করতে পারে অবশ্যই পারবে । সম্মেলন থেকে অর্জিত শিক্ষা, জ্ঞান ও উপলব্ধি নিজ নিজ এলাকায় কাজে লাগিয়ে মানবমর্যাদা সম্পন্ন সমাজ গঠনে যুবদের প্রতি আহ্বান জানান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, বাজার তথ্য ও উপযুক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে যুবদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে পিকেএসএফ। যে জিনিস গুলো তোমরা শিক্ষনীয় হিসেবে পেয়েছ সেগুলি অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে দেবে। আমরা চাই নেতৃত্ব গড়ে উঠুক শূধূ যে দক্ষতা না নেতৃত্বও। তোমরা দেশের জন্যে নিজের জন্যে পরিবারের জন্যে অনেক কাজ করতে পারো অনেক অবদান রাখতে পারো। যেটা চাও সেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং চাকরি করতে চাইলে নিজে খুঁজে নিতে পারো, আমরা সহায়তা করতে পারি। কিন্তু যারা উদ্যোক্তা তাদের পাশে আমরা থাকতে চাই। কারণ আমরা চাই বেশি বেশি করে উদ্যেক্তা হোক। কাজেই তোমরা নিজেরা চাকরি খুঁজবে, যারা অলস নও তারা নিজেরা উদ্যেক্তা হবে পরিশ্রম করবে সেইসাথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সেই জন্য তো আমরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, কি প্রযুক্তি লাগবে সে বিষয়ে আমরা সহায়তা করবো। কোন জিনিসটা তৈরি করলে বাজারে বিক্রি হতে পারে সেই তথ্য আমরা দেব এবং বাজারজাতকরণে আমরা সহায়তা করবো। আর পাশাপাশি উপযুক্ত অর্থায়ন। তোমার যা অর্থ লাগে পল্লিকর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে এটা আমাদের অঙ্গীকার।
যুবদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সম্মেলন সফল হয়েছে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম। এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ অনেক দুর এগিয়ে গেছে। এই দুরদর্শিতা নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কাজ করছেন জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য। তোমাদেরকে আমরা অগ্র পথিক হিসেবে বা সৈনিক হিসেবে পেতে চাই আশা করি আমরা পাবো। তোমরা যেহেতু দেশের প্রাণশক্তি তোমরাই আমাদের ভবিষ্যৎ ইন্ড্রাষ্ট্রিয়াল জেনারেশনের নেতৃত্ব দিতে পারো এবং সেই হিসেবে উপযোগী করে তোমাদেরকে আমরা গড়ে তুলতে চাই। অত্যাধুনিক বিষয়গুলোতে তোমাদেরকে আমরা প্রশিক্ষণ দিব। মাতৃভাষা আর ইংরেজী ভাষা ছাড়াও তৃতীয় ভাষা শেখার জন্য তোমাদেরকে আমরা উৎসাহিত করবো, প্রয়োজনে সহায়তা করবো। তোমাদের চলার পথে বাধা যখন আসবে আমরা তোমাদের সাথে থাকবো। এর আগে, সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রবন্ধসমূহের সার-সংক্ষেপ উপস্থাপন এবং যুব উন্নয়নে পিকেএসএফ-এর ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে বক্তব্য দেন পিকেএসএফ-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জসীম উদ্দিন। উল্লেখ্য, যুব সম্মেলনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উন্নয়ন সংস্থা প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি থেকে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেনসহ ১৬জন যুব প্রতিনিধি অংশ নেন।

মন্তব্য দেয়া বন্ধ রয়েছে।

একদম উপরে যান