৬ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২০শে জুন, ২০১৯ ইং | ১৭ই শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী | বৃহস্পতিবার | বিকাল ৫:১৬ | বর্ষাকাল
সর্বশেষ সংবাদ
Bangla Font Problem?

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ্ব নিরাপদ সড়ক সপ্তাহ শুরু

সোমবার :: ০৬.০৫.২০১৯।

“জীবন বাঁচান, আওয়াজ তুলুন” এই প্রতিপাদ্যে আজ থেকে শুরু হওয়া নিরাপদ সড়ক সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) দেবেন্দ্রনাথ উরাঁও এর সভাপতিত্বে, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক। প্রত্যেককেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হবার আহবান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রধান একটা সমস্যা আছে আমাদের দেশে। এই সমস্যাটা হলো আমরা সবাই কিছু না কিছু ক্ষেত্রে দায়ী। সড়ক দায়ী, সড়কের ডিপার্টমেন্ট দায়ী, বিআরটিএ দায়ী, পুলিশ দায়ী, গাড়ী চালক, আমি আপনি আমরা প্রতেক্যেই কোন না কোন ভাবে দায়ী। যে যার অবস্থানে থেকে যদি আমরা একটু সচেতন হই, অধৈর্য না হয়, ধৈর্যশীল হই তাহলে নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন করা সম্ভব। সবাইকেই তাদের নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করতে হবে, সচেতন হওয়া লাগবে, তাদেরকে একটু হলেও শিক্ষিত হওয়া লাগবে। বাঁচতে হলে সকল বিষয়ে জানতে হবে। তাছাড়া ট্রাফিক আইনটা কি এই সম্পর্কেও জানতে হবে। কারণ এই সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানিনা। আর যারা জানি তারা মানিনা। তাই জানতে হবে, মানতেও হবে। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, এখানে মাদক একটি বিষয়। অনেক ড্রাইভার বা চালক রয়েছেন যারা মাদক সেবন করে গাড়ি চালান, যেটা সড়ক দুর্ঘটনার জন্য অনেকভাবে দায়ী। আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত মাদকযুক্ত একটি জেলা। এখানে মাদক সেবনকারীর সংখ্যাও অনেক বেশী। তাই এই মাদককে না বলতে হবে। এর ব্যবহার থেকে আমাদেরকে দূরে থাকতে হবে। কারণ, এটি একটি পরিবারের জন্য, একটি দেশের উন্নতির জন্য, একটি জাতির ভষ্যিৎ এর মারাত্মক ক্ষতিকর। আমরা সবাই মিলে যখন কাজ করছি, তখন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা, প্রধানমন্ত্রীর সোনার বাংলা গড়ার ক্ষেত্রে আমাদের এই উদ্যোগ অবশ্যই সফল হবে। আর ট্রাফিক আইন মেনে নিরাপদ গতিতে গাড়ি চালান, নিরাপদে বাড়ি ফিরুন, কারণ প্রিয় মুখগুলো আপনার জন্যই অপেক্ষা করে আছে। এসময়, সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এএম আতিকুল্লাহ বলেন, আমাদের সড়কে সাইন সিগন্যালের অপ্রতুলতা আছে। আমরা আসলে সাইন সিগন্যাল, রোড মার্কিং, স্পিড ব্রেকার এই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের সচেতনতার অভাব ছিলো, সেটা এখনো আছে, যদিও এই সমস্যা আগের থেকে অনেক কমে এসছে। কিন্তু যেহেতু আমরা উন্নয়নশীল দেশের কাতারে সামিল হয়েছি, আমাদের এখন উন্নত চিন্তা ভাবনা, আমাদের এখন কার্যকরী চিন্তা ভাবনার মধ্যে ঢোকার সম্ভাবনা এসছে, তাই সড়কে আনুষঙ্গিক যে বিষয়গুলো সেগুলো সবকিছুই জানতে হবে। এর জন্য আমরা সাইন সিগন্যাল, রোড মার্কিং এগুলো দিকে নজর দিচ্ছি। আমরা সারা বাংলাদেশে এই বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের তত্ত¡াবধানে এবং জেলা প্রশাসনের সরাসরি নির্দেশনায় আমরা এই বিষয়গুলি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছি এবং আশা করছি আমাদের সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের অধীনে যেসব মহাসড়ক আছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ন বাজার, স্থান, কলেজ এগুলোর সবকিছুর সামনে আমরা সাইন সিগন্যাল স্থাপন করবো। সড়কের গুরুত্বপূর্ন স্থানে জেব্রা-ক্রসিং, কিছু কিছু স্থানে স্পিড ব্রেকার যেগুলো হাইওয়ের জন্য উপযুক্ত সেগুলো আমরা স্থাপন করবো। এদিকে, সদর থানা ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম বলেন, আপনারা জীবন বাঁচাবেন ঠিক আছে, আপনার যে প্রচেষ্টা সেটা সর্বদা থাকতে হবে। যদি প্রচেষ্টায় না থাকে তাহলে, বাঁচার জন্য আওয়াজ আপনি তুললেন, কিন্তু সেই আওয়াজ আপনার কতটুকু কাজে লাগলো সেটাই যদি ঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ না করেন তাহলে সেটা কখনোই পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগবেনা। তাই আপনি যদি বাঁচতে চান, সুস্থ থাকতে চান, নিরাপদে জীবনযাপন করতে চান, তাহলে অবশ্যই সকল ট্রাফিক নিয়ম-কানুন সম্পর্কে জানতে হবে, সেগুলো মেনে চলতে হবে। আর অন্যকেও সেটা মেনে চলার কথা বলতে হবে। কারণ আওয়াজ তোলাটা শুধু মুখে বললেই হবেনা। সেটা কাজেও বাস্তবায়ন করতে হবে এবং বাস্তব জীবনে একে কাজেও লাগাতে হবে। আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা অফিসের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ারুল কিবরিয়া, জেলা ট্র্যাক, টাংকলরী ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইদুর রহমান, সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কারিগরী প্রশিক্ষই কেন্দ্র (টিটিসি)-এর শিক্ষকবৃন্দসহ অন্যান্যরা। আজ থেকে শুরু হওয়া এই নিরাপদ সড়ক সপ্তাহ শেষ হবে আগামী ১২ মে।

মন্তব্য দেয়া বন্ধ রয়েছে।

একদম উপরে যান