১০ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং | ২৭শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী | শনিবার | রাত ১২:০৬ | বসন্তকাল
সর্বশেষ সংবাদ
Bangla Font Problem?

নিজ বন্দুকের গুলিতে আত্মহত্যা, স্বজনদের দাবি ও পুলিশের ধারণা, ঋণগ্রস্থের কারণেই এই ঘটনা

বুধবার :: ১৫.০১.২০২০।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে এনামুল হক নামে এক ব্যবসাযীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুরাতন বাজারে নিজ ব্যবসায়িক অফিস থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ঋণের কারনে হতাশাগ্রস্থ হয়ে এনামুল হক নিজ বন্ধুকের গুলিতে আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর স্বজন ও কর্মচারীরাও এমন দাবী করেছেন। এনামুল হক শহরের স্বরুপনগর (নতুন জেলখানা) এলাকার মৃত সাজ্জাদ আহমেদের ছেলে। শহর কেন্দ্রে সদর থানা সংলগ্ন তাঁর অফিস ও শো-রুম রয়েছে। তিনি রড, সিমেন্ট, জ্বালানি তেল, মবিলসহ বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী ব্যবসায়ী এনামুল হক নিজ লাইসেন্স করা বন্ধুক দিয়ে নিজেই কানের নীচে গুলি করে আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বন্ধুকটি মরদেহের সাথেই পাওয়া গেছে। ওসি বলেন, এনামুল হক ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি ছিলেন। এ সংক্রান্ত তাঁর ২৫/২৬ টি মামলা আদালতে চলমান ছিল বলে জানা গেছে। ব্যাংকে সম্পত্তি মর্টগেজ দিয়ে তিনি এক প্রকার দেওলিয়া হয়ে হতাশায় ভূগছিলেন বলে ওসি জানান। মৃতের সাথে একই ব্যবসায় যুক্ত তাঁর ছোট ভাই আনোয়ার সাদাত ,তাঁর ভাগিনা পিয়াস ও মানেজার শাহীন আলীসহ অনান্য স্বজনরা দাবী করেছেন, ঋণের কারনেই এনামুল আত্মহত্যা করেছেন। তারা বলেন, সকালে নীচতলার শোরুমে বসেন এনামুল। এরপর ১০টার দিকে তিনি দোতলায় নিজ অফিসে উঠে যান। এরপরই তিনি অফিসের দরজায় নিজ বন্ধুক দিয়ে নিজেই মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন। বেলা ১১ টার দিকে ম্যানেজার তাঁর মরদেহ প্রথম দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানান। স্বজন ও কর্মচারীরাও এনামুলের আত্মহত্যার কারন হিসেবে ইসলামী ব্যাংকে ৬/৭ কোটি টাকার ঋণ ও এ সংক্রান্ত একাধিক মামলার বিষয়টি উল্লেখ করেন। এছাড়া তাঁর কোন শত্রু ছিলনা বলেও তাঁরা দাবী করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ ভবনটি ঘিরে ফেলে। দুপুর পৌনে ২টার দিকে রাজশাহী থেকে আসা সিআইডি’র ক্রাইম সিন ও ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করে। তবে তারা সাংবাদিকদের কোন তথ্য দেয়নি। তবে এনামুলের লেখা একটি ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া গেছে বলে পুলিশের একটি সূত্র ও কর্মচারীরা জানিয়েছে। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে।

মন্তব্য দেয়া বন্ধ রয়েছে।

একদম উপরে যান